উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোতাহারা বেগম তুহিনের প্রচেষ্টায় নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপে চাষে সাফল্য, চাষিদের মুখে হাসি
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোতাহারা বেগম তুহিনের প্রচেষ্টায় নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপে চাষে সাফল্য, চাষিদের মুখে হাসি
হেলাল উদ্দীন (মিঞাজী) নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান )প্রতিনিধিঃ
সম্পূর্ণ গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ঝুলে আছে বিভিন্ন আকারের কাঁচা–পাকা পেঁপে। ক্ষেতজুড়ে পেঁপে আর পেঁপে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেরারকুল গ্রামের একটি খেতের চিত্র এটি। এটার মালিক ওসমান সরওয়ার (৩০)। তিনি স্থানীয় মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রায় ৩০ শতক জমিতে ‘টপলেডি জাত’–এর পেঁপে চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। ওসমানের ভাষ্য, চারা রোপণ ও পরিচর্যা বাবদ শ্রমসহ ৩০ শতক জমিতে তাঁর খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।
ইতোমধ্যেই তিনি ১৫০ টি গাছ থেকে ৯ বার পেঁপে তুলে পাইকারি দামে বিক্রি করে প্রায় ৬০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দুই মাসে আরও ১৫০টি গাছ সহ মোট ৩০০ গাছ থেকে পেঁপে পাবেন বলে ধারণা করছেন। সেগুলো বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই শিক্ষককে দেখে একই গ্রামে জাগের হোসেন, সাইফুল ইসলাম , শহিদ উল্লাহ, কাশেম, ওমর ফারুক, ওবাইদুল্লাহ, নুরুল হক, সালামত উল্লাহ, ইউনুছ, আলি হোসেন, আলি আকবর সহ অনেকেই পেঁপে চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
চাষি ওসমান জানান, তিনি আশারতলী তাফহিমুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। নিজের পরিত্যক্ত জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষে উদ্বুদ্ধ হন। প্রথম বছর মাত্র ১০০টি গাছ দিয়ে তিনি পেঁপে চাষ শুরু করেন। সে বছর অল্প খরচ ও সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় তাঁর আগ্রহ বাড়ে। চলতি বছর প্রায় ৩০ শতক ৩০০টি ‘টপলেড়ি জাত’–এর পেঁপের চারা রোপণ করেছেন। রোপণের দুই মাসের মাথায় গাছে ফুল ধরতে শুরু করে এবং তিন মাসের মাথায় পেঁপে বিক্রি শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর আগেও বসতভিটা কিংবা জমির আইলে সীমিত পরিসরে পেঁপের চাষ হতো। তবে অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। চলতি বছর সদরে প্রায় ৩৫ জন কৃষক পেঁপে চাষ হয়েছে বলে জানান নাইক্ষ্যংছড়ির উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোতাহারা বেগম তুহিন। তিনি বলেন, ওসমানের পাশাপাশি একই আাশারতলী ব্লকে প্রায় ৩৫ জন কৃষক পেঁপে চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই ফসল তুলতে শুরু করেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এতে উপজেলায় পেঁপের চাহিদা মিটিয়ে পাশাপাশি উপজেলা ও জেলায় পেঁপে বিক্রি করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন এই বছর নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের আশারতলী সহ আশেপাশের তিনটি এলাকায় প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে পেপে চাষ করা হয়েছে। কৃষি অফিস কর্তৃক প্রদত্ত সকল সুযোগ সুবিধা যথাযথ ভাবে প্রদান করা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স